পুরুলিয়া, নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালা বদলের পর থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ঘিরে একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কখনও দেখা যাচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য রাস্তায় বিক্ষোভ করতে। আবার কখনও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পেয়ে আনন্দ উৎসব করতে দেখা যাচ্ছে মহিলাদের। অন্নপূর্ণার এই বিতর্কের পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একেবারে ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেল পুরুলিয়াতে।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা হাতে পেয়েই নিজের জন্য নয়, গ্রামের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলেন পুরুলিয়ার হুড়া ব্লকের এক গৃহবধূ। হাতে তুলে নিলেন কোদাল, নেমে পড়লেন আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে। আর স্ত্রীকে একা কাজ করতে দেখে দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে পাশে এসে দাঁড়ালেন স্বামীও। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের এই দৃশ্য রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে সকলকে।
হুড়া থানার আমলাতোড়া গ্রামের বাসিন্দা মমতা মাহাতো। স্বামী লেনিন মাহাতোর ছোট গ্যারেজ। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তাঁদের সংসার। সীমিত আয়ের এই পরিবারে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা নিঃসন্দেহে স্বস্তি এনে দিয়েছে। কিন্তু সেই স্বস্তিকে শুধু নিজের পরিবারের মধ্যে আটকে রাখেননি মমতা। তা উজাড় করে দিয়েছেন সমাজের কাজে। মমতা মাহাতোর এই উদ্যোগ সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতাকে তুলে ধরেছে।
গ্রামের স্কুলে যাওয়ার সময় নলকূপটির বেহাল দশা চোখে পড়ে তাঁর। চারপাশে জমে রয়েছে আবর্জনা। নোংরায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল পানীয় জলের ব্যবস্থা। সেই দৃশ্যই ভাবিয়ে তোলে মমতাকে। আর তারপরেই কোদাল হাতে নিয়ে সেই এলাকা পরিষ্কার করার কাজেই নেমে পড়েন। পাশে এসে দাঁড়ায় তার স্বামীও। কোনও প্রচার নয়, কোনও আয়োজন নয় নীরবে নিজের মতো করে স্কুল চত্বর পরিষ্কার করতে শুরু করেন মমতা মাহাতো ও লেলিন মাহাতো।
এ বিষয়ে লেনিন মাহাতো বলেন, 'সমাজের জন্য স্ত্রীর এই কাজ দেখে আর বসে থাকতে পারিনি। তার স্ত্রী যে সকলের জন্য এতখানি ভেবেছে এটাই তার কাছে ভালোলাগার। তাই নিজেও এলাকা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগিয়েছিলেন।'
এ বিষয়ে মমতা মাহাতো বলেন , 'অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা হাতে পেতেই সমাজের জন্য কিছু করার ভাবনা হয়েছিল। স্কুলের নলকূপটি আবর্জনায় ভরে থাকতে দেখে মনে হল, আগে এটা পরিষ্কার করা দরকার। তাই কাজে নেমে পড়ি। এটা খুবই সাধারণ একটি কাজ। একজন মা হিসেবে এই কাজ করা তার কর্তব্য'
তবে শুধু নলকূপ পরিষ্কার করেই থেমে থাকেননি এই দম্পতি। পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে গাছও লাগিয়েছেন তাঁরা। গাছের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চারপাশে লাগিয়েছেন বেড়াও।
মমতা-লেনিনের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত, তখন হুড়ার এই ঘটনা যেন অন্য এক গল্প বলছে। বহু মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন মমতা।