কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: সাধারণ মানুষের পকেটে পড়েছে টান। নিত্য দ্রব্যের দাম হঠাৎই একলাফে আকাশ ছোঁয়া! ভোজ্য তেল, আটা, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে চিনি পর্যন্ত। এমতাবস্থায় মানুষের কপালে হাত। তারা ভাবছেন কিভাবে জীবনযাত্রা নির্বাহ করবেন! গত মাসের শেষ দিকে অবধি চিনির দাম ছিল ৪৮ টাকা। এ মাসের শেষের দিকে এসেই হঠাৎ করে তা একলাফে কুড়ি টাকা বেড়ে যায় কেজি প্রতি। চিনির দাম বাড়ায় সাধারণ গৃহস্থ থেকে ব্যবসায়ী সকলেই চিন্তার ভাঁজ কপালে।
সোমবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর মঙ্গলবার সাতসকালে উত্তর 24 পরগনার বসিরহাট নতুনবাজারে যৌথ অভিযান চালালেন বসিরহাটের মহকুমাশাসক জেসলিন কৌর এবং বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার অলকনন্দা ভাওয়াল ৷ মহকুমাশাসক জেসলিন কৌর বলেন- 'মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই বাজারে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি ও পরিস্থিতির তদারকি করতে এই পরিদর্শন ৷ মূলত চাল, চিনি, তেল, শাকসবজি এবং মাছ-মাংসের মতো অতি-প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কী দামে বিক্রি হচ্ছে, তা সরেজমিনে যাচাই করা এবং সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই বাজার সমীক্ষা ৷ এই পরিদর্শন সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট রাজ্য প্রশাসনের উচ্চমহলে পাঠানো হবে ৷' পুলিশ সুপার অলকনন্দা ভাওয়াল বলেন '১লা থেকে ৭ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পালিত হতে চলা 'ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ'-এর প্রস্তুতি এবং বাজারে যাতে কোনও বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি না-ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ ৷ চিনি ও চালের দামে কোনও অসঙ্গতি বা কারসাজি থাকলে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
বাজারে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ মালদা জেলা প্রশাসনের ৷ বেশিরভাগ দোকানে পর্যাপ্ত নথি নেই বলে অভিযোগ ৷ কোথাও সাতদিন আগে কেনা ৪৮ টাকার চিনি পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে৷ খোলা বাজারে পৌঁছতে পৌঁছতে সেই দর পৌঁছচ্ছে ৭০ টাকায়! অন্যদিকে, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার বালুরঘাটের বড়বাজারে অভিযান চালালো টাস্ক ফোর্স ৷বালুরঘাট মহকুমা প্রশাসন ও বালুরঘাট থানার পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এদিন বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম খতিয়ে দেখা হয়। সবজি, মুদিখানার সামগ্রী, ফল-সহ বিভিন্ন পণ্যের বর্তমান বাজারদর সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন টাস্ক ফোর্সের প্রতিনিধিরা ৷ পাশাপাশি দোকানে ব্যবহৃত পাল্লা ও বাটখারাও পরীক্ষা করে দেখা হয় ৷ ক্রেতাদের কাছ থেকে বাজারদর জানা হয়।
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা ‘বেআইনিভাবে চাল ও চিনি মজুত করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। চিনির দাম এই দু সপ্তাহ একটু গন্ডগোল করেছে। এটা ৪৮ টাকা রেটেই ছিল ৷ কিন্তু আমরা অ্যাসেস করেছি দু সপ্তাহ আগে ৫৮। আর এই দু-তিন দিন হলো ৬৮ হয়েছে। তবে আমরা পেয়ে গিয়েছে লিকেজ কোথায় আছে। কন্ট্রোল হয়ে যাবে। দু-তিন দিনের মধ্যে আশা করছি সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’
বাজারে চালের দাম।এই মুহূর্তে কেজিতে অন্তত তিন টাকা বেড়েছে। ৪৮ টাকার পেঁয়াজ একধাক্কায় ৫৭ টাকায় পৌঁছেছে। ১৯০ টাকার রসুন বিকোচ্ছে ২১৫ টাকায়। ২০৯ টাকা ছাড়িয়েছে মুরগির মাংস এবং সরষের তেলও। তাই চিনি, পেঁয়াজ-সহ অন্তত ছ’টি খাদ্যবস্তুর কালোবাজারি রুখতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন। ইবি আধিকারিকরা সরাসরি বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মজুত ভাণ্ডার খতিয়ে দেখেছেন। যাতে কৃত্রিম অভাব বানিয়ে কেউ মুনাফা লুটতে না পারে।