নয়াদিল্লি, স্নিগ্ধা চৌধুরী: অবশেষে বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনের নতুন টিম ঘোষণা হল। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতীন নবীনের অনুমোদনে নতুন জাতীয় পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন টিমে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে সংগঠনের বিভিন্ন শাখাতেও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
নতুন তালিকায় মোট ১৩ জনকে জাতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তীরথ সিং রাওয়াত, রাম মাধব এবং বৈজয়ন্ত জয় পান্ডা। দলের কেন্দ্রীয় সংগঠনে তাঁদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ সামলানোর ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় সাধারণ সম্পাদকদের তালিকাতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তাঁর অন্তর্ভুক্তি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলের প্রচার এবং সাংগঠনিক কার্যকলাপে তাঁকে আরও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যেতে পারে।
নতুন কেন্দ্রীয় টিমে মোট ১৬ জন জাতীয় সম্পাদককেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় একাধিক নতুন মুখ জায়গা করে নিলেন। বিভিন্ন রাজ্য ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের দিকে নজর রেখেই পদাধিকারীদের বাছাই করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংগঠনের আর্থিক দায়িত্বেও পরিবর্তন এসেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে বিজেপির জাতীয় কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। দলের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু কেন্দ্রীয় পদাধিকারী নয়, দলের বিভিন্ন মোর্চার দায়িত্বেও নতুন মুখ আনা হয়েছে। যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি করা হয়েছে হেমাং যোশীকে। মহিলা মোর্চার নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হয়েছেন রূপ কুমারী চৌধুরী। এর মাধ্যমে যুব ও মহিলা সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনও বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। সেই কারণে নতুন কেন্দ্রীয় টিমের সামনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণে নজর রাখার বড় দায়িত্ব থাকছে।
নতুন টিমে অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি তরুণ ও নতুন মুখের উপস্থিতি বিজেপির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কীভাবে সংগঠনকে ভোটের ময়দানে আরও সক্রিয় করে তুলতে পারেন।