সোকোটো, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ধান কাটার কাজে যাওয়ার পথে নৌকাডুবি। উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার সোকোটো প্রদেশে এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। মৃতদের মধ্যে একাধিক শিশুো রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নৌকাটিতে ৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান। এখনও ১৫ জন নিখোঁজ।
উদ্ধারকাজ চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গোরাউ এলাকার কাছে নৌকাডুবির পর এখনও পর্যন্ত ৪৬টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। ১৬ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্গম এলাকায় দুর্ঘটনাস্থল হওয়ায় উদ্ধারকারী দলকে সেখানে পৌঁছতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নৌকায় মূলত কৃষিশ্রমিক এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা শিশুদের একটি দল ছিল। ধান কাটার মরশুমে খেতের দিকে যাওয়ার জন্যই তাঁরা নৌকায় উঠেছিলেন বলে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনার পর প্রায় ৫০টি দেহ দেখতে পেয়েছিলেন তিনি।
অনেক দেহ মাদুর ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি স্থানীয় মসজিদের সামনে রাখা হয়েছিল। সোকোটোর প্রত্যন্ত গোরাউ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। জরুরি পরিষেবা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে নেমেছে।
নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌকার রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নিরাপত্তা বিধি ঠিক মতো কার্যকর না হওয়াকেই বার বার এমন দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়। গত মাসেই জিগাওয়া প্রদেশে নৌকা উল্টে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে জিগাওয়া থেকে ইয়োবে যাওয়ার পথে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও নাইজার নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ৫৪টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই নৌকায় ২০০-রও বেশি যাত্রী থাকতে পারেন বলে অনুমান করা হয়েছিল।
নৌ-দুর্ঘটনা রুখতে নাইজেরিয়ার প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে। নিরাপদ নৌকা ও লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা, জলপথের গভীরতা বাড়াতে ড্রেজিং, ঘাট ও টার্মিনালে জলপথের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন এবং নৌকা চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার মতো পরামর্শ রয়েছে।
কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই সেই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। নাইজেরিয়ার গ্রামীণ এলাকায় নদীই যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দুর্বল সড়ক যোগাযোগ এবং সেতুর অভাবের কারণে মানুষ ও পণ্য পরিবহণে কাঠের নৌকার উপর নির্ভর করতে হয়। সেই নির্ভরতাই বার বার ডেকে আনছে বিপদ।