নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বস্তির খবর দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার পর থেকেই ক্রমশ শক্তি হারাতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। উত্তাল সমুদ্রের দাপট কাটিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে এটি গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হচ্ছে বলে জানিয়েছে IMD। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ আপাতত উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমমুখী হলেও বাংলার উপকূলে সরাসরি এর বড়সড় কোনও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পশ্চিমবঙ্গে কোনও ধরনের চূড়ান্ত সতর্কতা বা দুর্যোগের পূর্বাভাস জারি করা হয়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্যজীবীদের যাতায়াতে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছিল। ওই সময়ে সমুদ্রের উপর ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস বইলেও, ৩ নভেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে শুরু করেছে।
রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুর্যোগের মেঘ কার্যত কেটে গিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই এখন থেকে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। আজ, ৪ নভেম্বর থেকেই দক্ষিণের জেলাগুলিতে মেঘমুক্ত বা পরিষ্কার আকাশের দেখা মিলবে। ৫ নভেম্বর থেকে আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিহীন, মনোরম ও শুষ্ক আবহাওয়া বহাল থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহে চাষের কাজ কিংবা নিত্যদিনের পরিকল্পনা নিয়ে বড় কোনও উদ্বেগের কারণ নেই।
অন্যদিকে,উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার মেজাজ মোটের উপর শান্ত। তবে পার্বত্য এলাকায় স্থানীয় মেঘের কারণে আজ, ৪ নভেম্বর দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের দু-এক জায়গায় খুব সামান্য বা হালকা বৃষ্টি হতে পারে। সমতলের জেলাগুলিতে তেমন কোনও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই বৃষ্টিহীন, শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে।
সামগ্রিকভাবে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র শক্তি ক্ষয় বঙ্গবাসীকে এক বড়সড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রেহাই দিল। সপ্তাহান্তে রাজ্যজুড়ে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা কমে গিয়ে শীতের আগাম আমেজ অনুভূত হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।




