সইফ খান, নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের সোনপুর বাজারি এলাকায় ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)-এর কয়লা খনিকে ঘিরে উঠেছে টেন্ডার দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের গুরুতর অভিযোগ। তথাকথিত ‘কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশন’ এর মতো নাম ব্যবহার করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। বিভিন্ন কাজ ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলেও জানা যাচ্ছে।
এই অভিযোগে সোনি কার্তিক মণ্ডল, সন্তোষ চৌরাসিয়া, কেদার রানা ও স্বপন ঘোষের নাম সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের পিছনে মদত রয়েছে ECL-এর এরিয়া ইঞ্জিনিয়ার রিক কুমার বসাকের। তাঁর ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদতেই টেন্ডার সংক্রান্ত অনিয়ম চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, রিক বসাকের বিরুদ্ধে এর আগেও টেন্ডার সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।
তবে রিক কুমারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাম্প্রতিক একটি টেন্ডারকে ঘিরে। অভিযোগ, টেন্ডারটি ৮ তারিখে প্রকাশিত হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী ২৪ তারিখ সকাল ১১টা নাগাদ বিডিংয়ের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর NIT-এর তথ্য পরিবর্তন করে আরও একদিন সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট কোনও ঠিকাদারকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, বিডিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন ঠিকাদারের প্রাইস বিড সম্পর্কে তথ্য জেনে নিয়ে তাঁদের ফোন করা হয়। অর্থের বিনিময়ে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। মোট কাজের মূল্যের প্রায় ৫ শতাংশ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই কাজে সোনপুর বাজারি এলাকার কয়েকজন যুবককে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি অভিযোগকারীদের। অন্যদিকে, এই সিন্ডিকেটের কার্যকলাপে স্থানীয় বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির নাম ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। সঞ্জয় যাদব নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বিজেপি নেতা এবং বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। এমনকি বিধায়কের মদতেই এই কর্মকাণ্ড চলছে বলে তিনি দাবি করছেন বলেও অভিযোগ।
তবে সূত্রের দাবি, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি অবগত নন। এই ঘটনায় সঞ্জয় যাদবের পাশাপাশি বেণুধর মণ্ডল নামে অপর একজনের নামও সামনে এসেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং গোটা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে ECL কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।