কেয়া মণ্ডল: পিরিয়ডের সময় ব্যথা, অস্বস্তি বা কিছুটা বেশি রক্তপাত অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তপাতকে সবসময় স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় হেভি মেনস্ট্রুয়াল ব্লিডিং বা মেনোরেজিয়া। অতিরিক্ত রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে প্রতি ঘণ্টায় প্যাড ভিজে যাওয়া, বড় আকারের রক্তের দলা বের হওয়া কিংবা সাত দিনের বেশি সময় ধরে পিরিয়ড চললে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কীভাবে রোগ নির্ণয়?
অতিরিক্ত রক্তপাতের পিছনে অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে কি না, তা জানতে প্রথমে বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হিমোগ্লোবিন, শরীরে আয়রনের মাত্রা এবং থাইরয়েডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোনের মাত্রা এবং রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যার ঝুঁকিও দেখা হয়।
কারণ খুঁজতে সাধারণত পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এর মাধ্যমে জরায়ুতে ফাইব্রয়েড, অ্যাডেনোমায়োসিস, ওভারিয়ান সিস্ট বা অন্য কোনও গঠনগত সমস্যা রয়েছে কি না, তা দেখা হয়। বয়স, উপসর্গ এবং অন্যান্য ঝুঁকির উপর নির্ভর করে হিস্টেরোস্কোপি বা এন্ডোমেট্রিয়াল বায়োপসির মতো পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসা কী?
অতিরিক্ত রক্তপাত কমাতে হরমোনাল কনট্রাসেপটিভ পিল, প্রোজেস্টেরন থেরাপি অথবা লেভোনরজেস্ট্রেল-রিলিজিং ইন্ট্রায়ুটেরিন ডিভাইস ব্যবহার করা হতে পারে। অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে অ্যানিমিয়া হলে দেওয়া হয় আয়রন সাপ্লিমেন্ট। ওষুধে কাজ না হলে কিংবা বড় ফাইব্রয়েড বা গুরুতর অ্যাডেনোমায়োসিসের মতো সমস্যা থাকলে প্রয়োজন হতে পারে পলিপেক্টমি, মায়োমেক্টমির মতো মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি বা অস্ত্রোপচার। খুব বিশেষ ক্ষেত্রে হিস্টেরেক্টমিও বিবেচনা করা হয়।
দু’ঘণ্টা অন্তর বা তারও কম সময়ে প্যাড বদলাতে হওয়া, একসঙ্গে একাধিক স্যানিটারি প্রোডাক্ট ব্যবহার করা, রাতে ঘুম ভেঙে গিয়ে প্যাড বদলানো, বড় রক্তের দলা বের হওয়া, সাত দিনের বেশি রক্তপাত চলা—এসবই অতিরিক্ত পিরিয়ডের
গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এমনকি রক্তপাতের কারণে কাজ, পড়াশোনা, সামাজিক জীবন বা ঘুম ব্যাহত হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাই সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন।