JAZZBAAT 24 BANGLA
২৩ সেপ্টে ২০২৬, ১০:১২ পিএম
Breaking
বাড়িতে একা নাবালিকা, ঢুকে পড়ল দুই যুবক, তারপর এই ঘটল ভয়ংকর কাণ্ড ‘ভোটে কারচুপি’, বিস্ফোরক অধীর রঞ্জন চৌধুরী ৪৫৪ বছরের ঐতিহ্য, মুঘল আমলের ইতিহাস! বারাসতের শিবকুঠির দুর্গাপুজোয় আজও অটুট প্রাচীন রীতি জঙ্গলের নীরবতায় আজও জাগ্রত দেউলঘাটার কালো দুর্গা এশিয়ান গেমসে মেঘনার সোনা জয়! নেপথ্যে বলিউড তারকা আয়ুষ্মান ১০২ গ্রাহকের নথি জাল করে ঋণ,১.২৫ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত রবিবার খোলা থাকবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক ধর্মঘটে পরিষেবা সচল রাখতে বড় পদক্ষেপ কেন্... IFA-এ শিল্ডের প্রথম ম্যাচেই দাপট সবুজ-মেরুনের, ক্রীড়ামন্ত্রীর হাত দিয়ে কলকাতা লিগের ট্রফ... বাড়িতে একা নাবালিকা, ঢুকে পড়ল দুই যুবক, তারপর এই ঘটল ভয়ংকর কাণ্ড ‘ভোটে কারচুপি’, বিস্ফোরক অধীর রঞ্জন চৌধুরী ৪৫৪ বছরের ঐতিহ্য, মুঘল আমলের ইতিহাস! বারাসতের শিবকুঠির দুর্গাপুজোয় আজও অটুট প্রাচীন রীতি জঙ্গলের নীরবতায় আজও জাগ্রত দেউলঘাটার কালো দুর্গা এশিয়ান গেমসে মেঘনার সোনা জয়! নেপথ্যে বলিউড তারকা আয়ুষ্মান ১০২ গ্রাহকের নথি জাল করে ঋণ,১.২৫ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত রবিবার খোলা থাকবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক ধর্মঘটে পরিষেবা সচল রাখতে বড় পদক্ষেপ কেন্... IFA-এ শিল্ডের প্রথম ম্যাচেই দাপট সবুজ-মেরুনের, ক্রীড়ামন্ত্রীর হাত দিয়ে কলকাতা লিগের ট্রফ...

গান্ধীজির ৫টি শিক্ষা, যা আজকের প্রজন্মের জীবনেও প্রাসঙ্গিক

গান্ধীজির ৫টি শিক্ষা, যা আজকের প্রজন্মের জীবনেও প্রাসঙ্গিক
মহাত্মা গান্ধী ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

নিউজ ডেস্ক: মহাত্মা গান্ধীর জীবন শুধু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নয়, তাঁর জীবনদর্শন আজও ব্যক্তি ও সমাজজীবনের জন্য এক গভীর শিক্ষার উৎস। সত্য, অহিংসা, আত্মনির্ভরতা, সরল জীবনযাপন এবং মানবসেবার মতো মূল্যবোধকে তিনি শুধু কথায় বলেননি, নিজের জীবন ও কর্মের মধ্য দিয়ে তার প্রয়োগ দেখিয়েছিলেন। তাই সময় বদলালেও গান্ধীজির শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি।

গান্ধীজির অন্যতম প্রধান শিক্ষা ছিল সত্যের প্রতি অবিচল থাকা। তাঁর আত্মজীবনীর নামই The Story of My Experiments with Truth যেখানে নিজের জীবনে সত্যকে অনুসরণ করার নানা অভিজ্ঞতার কথা তিনি তুলে ধরেছেন। তাঁর কাছে সত্য ছিল কেবল মুখে সত্য কথা বলা নয়; চিন্তা, কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখাও ছিল সত্যের অংশ। আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে, যখন দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ে এবং ভুল তথ্যও সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তথ্য যাচাই করা, সততা বজায় রাখা এবং নিজের ভুল স্বীকার করার মানসিকতা এই শিক্ষাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। গান্ধী হেরিটেজ পোর্টালে সংরক্ষিত তাঁর লেখাতেও সত্যকে মানবজীবনের অন্যতম মৌলিক নৈতিক মূল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

দেখুন: https://www.facebook.com/share/1C2ocwdyYq/

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা অহিংসা ও সত্যাগ্রহ। গান্ধীজি মনে করতেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঘৃণা ও হিংসাকে আশ্রয় নেওয়া জরুরি নয়। তাঁর সত্যাগ্রহের ধারণায় সত্যের প্রতি দৃঢ়তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিরোধ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে অসহযোগ, আইন অমান্য আন্দোলন এবং লবণ সত্যাগ্রহের মতো কর্মসূচিতে এই দর্শনের বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়। অহিংসা তাঁর কাছে দুর্বলতার প্রতীক ছিল না; বরং আত্মসংযম, সাহস এবং নৈতিক দৃঢ়তার প্রকাশ ছিল। আজকের দিনে ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে সামাজিক মতভেদ সব ক্ষেত্রেই যুক্তি, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গুরুত্ব বোঝাতে এই শিক্ষা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

তৃতীয় শিক্ষা স্বদেশি ও আত্মনির্ভরতার ভাবনা। গান্ধীজি স্থানীয় উৎপাদন, শ্রম এবং দক্ষতার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছিলেন। চরকা ও খাদি তাঁর কাছে কেবল পোশাক বা প্রতীক ছিল না; এগুলি ছিল সাধারণ মানুষের শ্রম, আত্মমর্যাদা এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের প্রতীক। Hind Swaraj-এ তিনি আধুনিক সভ্যতা, অর্থনীতি ও স্বরাজ নিয়ে নিজের চিন্তা তুলে ধরেছিলেন। আজকের প্রজন্মের কাছে এই ভাবনাকে নিজের দক্ষতা তৈরি করা, স্থানীয় উদ্যোগকে সম্মান করা এবং নিজের সামর্থ্যের উপর বিশ্বাস রাখার শিক্ষা হিসেবে দেখা যায়।

দেখুন: https://www.instagram.com/reels/DdlcTB-SG-B/

চতুর্থ শিক্ষা সরলতা, সংযম ও আত্মশুদ্ধি। গান্ধীজির জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। পোশাক, খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন জীবন সব ক্ষেত্রেই তিনি প্রয়োজন ও সংযমকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর ভাবনায় মানুষের মূল্য কেবল সম্পদ বা বাহ্যিক সাফল্যে নির্ধারিত হয় না; চরিত্র, দায়িত্ববোধ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আজ যখন অতিরিক্ত ভোগ, প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক প্রদর্শনের চাপ তরুণদের জীবনে প্রভাব ফেলছে, তখন সংযমী ও সচেতন জীবনযাপনের এই শিক্ষা নতুন করে ভাবার সুযোগ দেয়। গান্ধী হেরিটেজ পোর্টালে তাঁর লেখাগুলিতেও সরলতা, ধৈর্য এবং আত্মসংযমের উপর বারবার গুরুত্বের উল্লেখ পাওয়া যায়।

পঞ্চম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা মানুষের সেবা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ। গান্ধীজির কাছে স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের বিষয় ছিল না; সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষদের উন্নতি, অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও তাঁর বৃহত্তর সামাজিক চিন্তার অংশ ছিল। তাঁর Constructive Programme: Its Meaning and Place গ্রন্থে সমাজগঠনের নানা বিষয়কে স্বাধীনতার বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। অর্থাৎ শুধু অধিকার দাবি নয়, সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করাও নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

গান্ধীজির জীবনকে তাই শুধু অতীতের ইতিহাস হিসেবে দেখলে তাঁর শিক্ষার একটি বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যায়। সত্যের প্রতি নিষ্ঠা, অহিংস পথে মত প্রকাশ, নিজের শ্রম ও দক্ষতার উপর আস্থা, সংযমী জীবনযাপন এবং মানুষের কল্যাণে দায়িত্ব নেওয়া এই মূল্যবোধগুলি যে কোনও প্রজন্মের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি ও সময়ের সঙ্গে পৃথিবী বদলেছে, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব, সত্যের প্রয়োজন এবং নৈতিকতার মূল্য বদলায়নি। সেই কারণেই গান্ধীজির শিক্ষা আজও ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তি ও সমাজের আরও সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য তা আজও প্রাসঙ্গিক।

বিজ্ঞাপনrrr
78 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

Top Comments (0)

No approved comments yet.