রাঁচি, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে আরও উত্তাল হচ্ছে পরিস্থিতি। আন্দোলনের আবহেই সোমবার ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের দফতরে হানা দিল রাজ্য পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট। একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্তেই এই তল্লাশি বলে জানিয়েছেন সিআইডি-র অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল মনোজ কৌশিক।
গত ২৪ দিন ধরে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, একাধিক পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় গুরুতর গরমিল হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সংগঠন JPSC-JSSC Reforms Manch-এর দাবি, পুরো ঘটনার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি বাতিল করতে হবে জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা।
এই পরিস্থিতিতেই সোমবার ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের দফতরে সিআইডি-র তল্লাশি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তে ইতিমধ্যেই ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে-ও।
অন্য দিকে, আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে ঝাড়খণ্ড সরকারের উপর। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সোমবার ফের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠনগুলির। তার আগের দিনই মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কুশপুতুল পোড়ান আন্দোলনকারীরা।
এই আবহে জোটসঙ্গী হেমন্তকে চিঠি লিখেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। রাহুলের দাবি, পড়ুয়াদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং তাঁদের দাবিও যুক্তিসঙ্গত। সরকারের উচিত তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা।
চিঠিতে রাহুল আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত এবং গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাঁর দাবি, পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে ছাত্র আন্দোলন হয়েছে, কংগ্রেস তার পাশে রয়েছে।
ঝাড়খণ্ড সরকার ইতিমধ্যেই পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছে। কয়েকটি দাবিতে ঐকমত্যও তৈরি হয়েছে বলে কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে। তবে এখনও আন্দোলন থামেনি। কয়েক জন পড়ুয়া অনির্দিষ্টকালের অনশনেও বসেছেন। ফলে সিআইডি-র তল্লাশির পর এই নিয়োগ-কাণ্ডে তদন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সে দিকেই নজর।