ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সাথে যোগ মেক্সিকোর! তদন্ত করতে গিয়ে বিস্ময়ে চমকে উঠেছেন তদন্তকারী অফিসাররা। জানা যায় হামিম পাকিস্তানের আইএসআই জঙ্গিদের সাথে সম্পর্ক রাখতেন। এছাড়াও তার এবং তার বান্ধবী অর্পিতা এবং সাগরেদ আদিত্যের সাথে যোগসূত্র মেলে মেক্সিকোর। উদ্ধার হওয়া একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজ ডিকোড করার সময়েই বোঝা যায় আইএসআই জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বর্ধমান থেকে বেঙ্গল এসটিএফ-র হাতে ধৃত ওই জঙ্গির!
অনুমান করা হচ্ছে, মেক্সিকোর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেনার পরিকল্পনা ছিল ওই জঙ্গির। এছাড়াও বান্ধবী অর্পিতাকে ব্যবহার করে হানিট্র্যাপ হিসেবে কাজে লাগিয়ে, ব্ল্যাকমেলিং করত হামিম। লক্ষ্য একটাই টাকা জোগাড় করে অস্ত্র কেনা নাশকতামূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া। এই উদ্দেশ্যে তারা যোগাযোগ করে পাকিস্তানের কুখ্যাত শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের সঙ্গে।
তদন্তে পুলিশ যেসব জিনিস হামিম মণ্ডলের থেকে বাজেয়াপ্ত করে তার মধ্যে অন্যতম একটি আইফোন-১৬ প্রো মোবাইল ফোন। এছাড়াও তার কাছ থেকে মেলে আইএসআই থেকে প্রাপ্ত অর্থ! ফোন থেকে পাওয়া তথ্যে উঠে আসে চারটি নাম।আবীর,জাট, উজ়ের এবং রানা। এই রানার সাথেই যোগাযোগ রাখত হামিম। নিজের পরিচয় গোপন করার জন্য যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করা সেলফোন নেটওয়ার্ক (+৪৪, +৫২ ও +১১ প্রিফিক্সযুক্ত) ব্যবহার করত হামিম মণ্ডল। অন্যদিকে জাট অর্থাৎ আবিদ জাটকে শনাক্ত করে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আবিদ একজন পাকিস্তানি অপারেটিভ। সে জইশ-ই-মহম্মদ এবং ইসলামাবাদের আইএসআই, দুটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গেই যুক্ত। জাট এবং রানা অর্থাৎ, রানা হুনাইন উভয়েই হামিম মণ্ডলের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছিল। ১৭ জুন ২০২৫, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ভাট্টির একটি মডিউল ফাঁস করার সময় তল আসে। রানার নির্দেশ মেনে হামিম ওই সেলে স্থানীয় গুপ্তচরবৃত্তির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজে নেমেছিল। হামিম (কোডনেম সি৯-উঝাইর)-কে তাদের একজন এজেন্ট হিসেবে শনাক্ত করেছে আইএসআই! এবার দেখার এর শেষ কোথায়?