বর্ষাকাল যেমন আরামদায়ক,তেমনই এই সময়ে বাড়ে সংক্রমণ ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি। শুধু মানুষের নয়, পোষ্য কুকুর-বিড়ালের ক্ষেত্রেও বর্ষা নিয়ে আসে একাধিক সমস্যা। তাই এই সময়ে পোষ্যর পরিচর্যায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
কীভাবে বুঝবেন পোষ্য অসুস্থ?
* খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়।
* বারবার বমি বা ডায়রিয়া হয়।
* অতিরিক্ত শরীর চুলকায় বা বারবার শরীর চাটে।
* কান থেকে তরল পদার্থ বের হয় বা দুর্গন্ধ হয়।
* অত্যন্ত নিস্তেজ হয়ে পড়ে কিংবা জ্বর আসে।
কীভাবে যত্ন নেবেন?
১. পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন
বাইরে থেকে ফিরেই পোষ্যের পা,পেট ও শরীর ভালোভাবে মুছে দিন। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন,যাতে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ না হয়।
২. ত্বক ও লোমের যত্ন নিন
আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকের জ্বালা, র্যাশ বা ‘হট স্পট’-এর সমস্যা বাড়তে পারে। নিয়মিত ব্রাশ করলে লোম পরিষ্কার থাকে এবং ত্বকে বাতাস চলাচল সহজ হয়। লালচে দাগ, চুলকানি বা অতিরিক্ত আঁচড়ানোর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৩. পরজীবীর হাত থেকে সুরক্ষা
বর্ষাকালে মাছি, উকুন, টিক ও মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্পট-অন সলিউশন, ওষুধ, মেডিকেটেড শ্যাম্পু বা অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক কলার ব্যবহার করা উচিত।
৪. নোংরা ও জল জমা এলাকা এড়িয়ে চলুন
হাঁটানোর সময় জল জমে থাকা রাস্তা, কাদা বা অপরিষ্কার জায়গা এড়িয়ে চলুন। এতে ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
৫. নিরাপদ খাবার ও পানীয় জল দিন
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পোষ্যের খাবার দ্রুত নষ্ট হতে পারে। তাই টাটকা খাবার দিন এবং সবসময় পরিষ্কার পানীয় জল রাখুন। রাস্তায় জমে থাকা জল পান করতে দেবেন না।
৬. বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন
পোষ্যের বিছানা, খেলনা, খাবারের বাটি ও কম্বল নিয়মিত পরিষ্কার করুন। শোয়ার জায়গা শুকনো ও বাতাস চলাচল উপযোগী রাখুন, যাতে ছত্রাক ও জীবাণু না জন্মায়।