আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অভিনেতা মুকেশ খান্না। এ বার জাতীয় সঙ্গীত বদলে ‘বন্দে মাতরম’ করার পক্ষে সওয়াল করলেন তিনি। রবিবার এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ‘জন গণ মন’-এর পরিবর্তে ‘বন্দে মাতরম’-কে দেশের জাতীয় সঙ্গীত করা উচিত। এমনকি যত দ্রুত সম্ভব ‘জন গণ মন’ সরিয়ে ‘বন্দে মাতরম’ চালু করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন মহাভারতের ভীষ্ম এবং বিখ্যাত সুপারহিরো শক্তিমানের ভূমিকায় অভিনয় করা অভিনেতা।
মুকেশের দাবি, তিনি বছর তিনেক আগেও একই কথা বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘জন গণ মন’ নাকি ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে সম্মান প্রদর্শন করে লেখা হয়েছিল এবং সেই গানকে ভুল করে ভারত জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গ্রহণ করেছে। তাঁর মতে, ‘বন্দে মাতরম’-ই ভারতের নিজস্ব গান এবং সেটিকেই জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া উচিত। তাঁর নিজের তৈরি ৭ মিনিটের একটি ‘বন্দে মাতরম’ গানও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আশা, গানটি এক দিন ‘আইকনিক’ হয়ে উঠবে।
তবে মুকেশ খান্নার এই বক্তব্যের সঙ্গে ঐতিহাসিক তথ্যের মিল নেই। ‘জন গণ মন’ ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গানটি রচনা করেছিলেন ১৯১১ সালে। গানটি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্য লেখা হয়েছিল, এমন দাবির পক্ষে ঐতিহাসিক কোনও প্রমাণ নেই। অন্যদিকে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছিল। পরে এটিকে ‘রাষ্ট্রীয় গীত’-এর মর্যাদা দেওয়া হয়।
মুকেশ আরও দাবি করেছেন, ‘বন্দে মাতরম’ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্কুল ও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। তাঁর কথায়, ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ গান গাওয়ার উপরও জোর দেওয়া উচিত। জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে এমন বিতর্কিত মন্তব্য অবশ্য মুকেশের ক্ষেত্রে নতুন নয়। এর আগেও কৌতুকশিল্পী সময় রায়নার সঙ্গে প্রকাশ্য বাক্যুদ্ধে জড়িয়ে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। পরে অবশ্য সময়ের সঙ্গেই একটি বিজ্ঞাপনে একসঙ্গে দেখা যায় দু’জনকে।