অশোকনগর, নিউজ ডেস্ক: এতদিন অপেক্ষা, পরীক্ষা আর একের পর এক অনুসন্ধান। এবার সেই অপেক্ষার অবসান উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের শুরু হয়ে গেল বাণিজ্যিকভাবে অপরিশোধিত খনিজ তেল উত্তোলন। প্রায় ২৩৯৬ মিটার গভীর থেকে মাটির বুক চিরে উঠে আসছে তেল। আপাতত লক্ষ্য প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার লিটার। আর এই প্রকল্প সফল হলে বাংলার শিল্প অর্থনীতির ছবিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রে খবর, শুক্রবার অশোকনগরের বাইগাছি কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক তেল উত্তোলনের সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন ওএনজিসি-র ডিরেক্টর ওপি সিনহা এবং অশোকনগরের বিধায়ক সুময় হীরা। ওএনজিসি সূত্রে খবর, এই এলাকায় বর্তমানে মোট ছটি কূপ রয়েছে। তার মধ্যে চারটি তেল এবং দুটি প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে উত্তোলিত অপরিশোধিত তেল পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের জন্য পাঠানো হবে।
প্রায় এক দশক আগে অশোকনগরের মাটির নিচে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাব্য ভান্ডারের সন্ধান পায় ওএনজিসি। ২০২০ সালে পরীক্ষামূলক উত্তোলনের সময় একটি কোপ থেকে প্রায় ৩৭৫ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীসময়ে প্রকল্পকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়। নতুন কুপে ইতিমধ্যে পাম্পজ্যাকের মাধ্যমে উত্তোলন শুরু হয়েছে। আগামী দিনে আরও কয়েকটি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে ওএনজিসি সূত্রে জানা গিয়েছে।
শুধু তেল উত্তোলন নয়, প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাইগাছি কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু হয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কথা মাথায় রেখে আরও রাস্তা তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালের উন্নয়নের কাজেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি। স্থানীয় যুবকদের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
অশোকনগরের বাইগাছির পাশাপাশি ভুরকুন্ডা ও দৌলতপুর সহ একাধিক এলাকায় অনুসন্ধান ও খনন কাজ চলছে। জমি সংক্রান্ত জটিলতা মিটলে সেখানে কাজ আরও গতি পেতে পারে বলে মনে করা হয়েছে। গোটা প্রকল্পে ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ওএনজিসির দাবি অশোকনগরে পাওয়া অপরিশোধিত তেলের গুণমান যথেষ্ট ভালো। এর API গ্রাভিটিব প্রায় ৪০ থেকে ৪৫, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্রের তেলের সাথে তুলনীয় বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। ফলে, দেশের তেল আমদানির নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে অশোকনগরের এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।