ওজন কমানোর জন্য অনেকেই নিয়ম করে ওট্স, কিনোয়া বা অন্যান্য কম ক্যালোরির খাবার খেয়ে থাকেন। তবে প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খেতে খেতে অনেকেরই একঘেয়েমি চলে আসে। সে ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ স্যালাড যোগ করা হতে পারে একটি ভাল বিকল্প। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক উপকরণ দিয়ে তৈরি স্যালাড দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণিজ প্রোটিনের পাশাপাশি কিছু দিন উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খেলে শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়। একই সঙ্গে ক্যালোরি গ্রহণও নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে বিপাকক্রিয়া ভাল থাকে এবং শরীরে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমার প্রবণতাও কমে।
প্রথমেই রাখা যেতে পারে পালং শাক ও ছোলার স্যালাড। একটি বড় বাটিতে পালং শাক, সেদ্ধ ছোলা, কুচি করা গাজর, ক্যাপসিকাম, সূর্যমুখীর বীজ ও তিসির বীজ মিশিয়ে নিন। আলাদা একটি বাটিতে অলিভ অয়েল, ভিনিগার, সামান্য নুন, গোলমরিচ এবং ইচ্ছা হলে অল্প মধু মিশিয়ে ড্রেসিং তৈরি করুন। সেই ড্রেসিং স্যালাডের উপর ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। এই স্যালাডে প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভাল সমন্বয় থাকে।
দ্বিতীয় রেসিপি তরমুজ, পনির ও পুদিনার স্যালাড। ছোট ছোট করে কাটা তরমুজের সঙ্গে কাঁচা বা হালকা ভাজা পনির মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে শসা ও পুদিনা পাতা যোগ করলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়। উপরে সামান্য নুন, গোলমরিচ, লেবুর রস এবং অল্প চাট মশলা ছড়িয়ে পরিবেশন করা যায়। গরমের দিনে এই স্যালাড শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রোটিনও জোগায়।
তৃতীয় রেসিপি প্রোটিন সমৃদ্ধ গ্রিক স্যালাড। শসা, টম্যাটো ও পেঁয়াজ কিউব করে কেটে একটি পাত্রে নিন। এর সঙ্গে কালো অলিভ এবং পনির বা চিজ় যোগ করা যায়। যাঁরা চিজ় এড়িয়ে চলেন, তাঁরা হালকা ভাজা বা কাঁচা পনির ব্যবহার করতে পারেন। শেষে অলিভ অয়েল, লেবুর রস ও অরিগ্যানো দিয়ে ড্রেসিং তৈরি করে মিশিয়ে নিলেই স্যালাড প্রস্তুত।
তবে শুধু স্যালাড খেলেই ওজন কমবে, এমন নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত ক্যালোরি গ্রহণ, পর্যাপ্ত জলপান এবং নিয়মিত শরীরচর্চার সঙ্গে এই ধরনের প্রোটিন সমৃদ্ধ স্যালাড যোগ করলে ওজন নিয়ন্ত্রণের পথে ভাল ফল মিলতে পারে। পাশাপাশি শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পাবে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সতেজ থাকা সহজ হবে।