স্পোর্টস ডেস্ক: একদিকে বাংলা ক্রিকেট সংস্থার (সিএবি) সভাপতি। অন্যদিকে আইপিএলের দল দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ। একই সঙ্গে ক্রিকেট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এবং আইপিএলের একটি দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠতেই পারে। আর সেই প্রশ্নই উঠেছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনে। তবে বিতর্কে খুব একটা আমল দিতে নারাজ প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিসিসিআইয়ের ওম্বাডসম্যানের নির্দেশ রয়েছে। ফলে তাঁর নতুন দায়িত্ব নিয়ে কোনও সমস্যা নেই বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন সৌরভ।
৬ অক্টোবর দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা করা হয় সৌরভের নাম। ২০২৭ সালের আইপিএলে দিল্লির ডাগআউটে দেখা যাবে তাঁকে। এর আগে দলের কোচের দায়িত্ব সামলেছেন জাতীয় দলে তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ হেমাঙ্গ বাদানি। এ বার সেই দায়িত্বেই এলেন মহারাজ। আইপিএলের কোনও দলের হেড কোচ হিসেবে এটাই হতে চলেছে তাঁর প্রথম অভিযান। কিন্তু নিয়োগ ঘোষণার পরেই উঠতে শুরু করে প্রশ্ন। সিএবির সভাপতি পদে থেকে কী ভাবে আইপিএলের একটি দলের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি? ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা অবস্থায় কোনও নির্দিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কাজ করাকে ঘিরে স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা নিয়েই শুরু হয় আলোচনা।
এই বিতর্কের মধ্যেই ভারত-উরুগুয়ে ফুটবল ম্যাচের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন সৌরভ। সেখানেই তিনি সংক্ষিপ্ত ভাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। তাঁর বক্তব্য, “আমার কাছে ওম্বাডসম্যানের নির্দেশ রয়েছে।” অর্থাৎ, বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ তাঁর হাতে রয়েছে এবং সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই তিনি দিল্লির কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন। সৌরভের কথায়, নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আগে স্বার্থের সংঘাত সংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর অজানা ছিল না। বরং প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও অনুমোদনের বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি এগিয়েছেন। ফলে এই মুহূর্তে বিতর্ককে কেন্দ্র করে নিজের সিদ্ধান্ত বদলের কোনও ইঙ্গিত দেননি তিনি।
ভারতীয় ক্রিকেটে প্রশাসক এবং কোচ, দুই ভূমিকাতেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে সৌরভের। বিসিসিআইয়ের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বর্তমানে বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ পদে রয়েছেন। এ বার সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে যোগ হচ্ছে আইপিএলের কোচিংয়ের নতুন অধ্যায়। দিল্লি ক্যাপিটালসকে নিয়ে তাঁর সামনে অবশ্য বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী মরশুমে দলকে সাফল্যের পথে ফেরানোই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তার আগে স্বার্থের সংঘাত নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিয়ে আপাতত বিতর্কে জল ঢালতে চাইলেন সৌরভ। তাঁর ছোট্ট বক্তব্যেই স্পষ্ট—সিএবি সভাপতি এবং দিল্লির কোচ, দুই দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর ক্ষেত্রে ওম্বাডসম্যানের নির্দেশকেই তিনি ঢাল হিসেবে দেখছেন।
