বর্ধমান, নিউজ ডেস্ক: একটি ক্যাপ, আর তা নিয়েই এখন তোলপাড় রাজ্যের নার্সিং মহল। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে নার্সকে প্রকাশ্যে ভৎসনার ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই নার্সদের 'স্মল ক্যাপ' পরা বাধ্যতামূলক করল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। নির্দেশিকা ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন, এটা কি নতুন ড্রেস কোড, নাকি বহুদিনের পুরনো নিয়মের প্রত্যাবর্তন?
ঘটনা সূত্রপাত গত শুক্রবার। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নার্স ক্যাপ না পরায় প্রকাশ্যে তাঁকে ভৎসনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড.শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ঘটনার পর থেকে নার্সিং মহলে শুরু হয় আলোচনা। এর মাত্র তিন দিনের মধ্যে সোমবার স্বাস্থ্য দপ্তরের নার্সিং শাখা নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করে।
সূত্রে খবর, নির্দেশিকায় গ্রেড- ২ স্টাফ নার্স, সিস্টার টিউটর, জয়েন্ট নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট থেকে নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট - নার্সিং ক্যাডারের বিভিন্ন স্তরের কর্মী এবং আধিকারিকদের পোশাকের নিয়ম নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সাদা শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ এবং সঙ্গে পরতে হবে 'স্মল ক্যাপ'। শুধু মাথার টুপি নয় শীতের পোশাক, জুতো এবং অলংকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট বিধি।
কিন্তু, বিতর্ক শুরু হয়েছে ক্যাপের ধরন নিয়ে। সরকারি হাসপাতালের নার্সরা দীর্ঘদিন ধরে ট্রায়াঙ্গুলার ক্যাপ ব্যবহারে অভ্যস্ত। তাঁদের একাংশের প্রশ্ন, সেই পরিচিত ক্যাপের বদলে কেন 'স্মল ক্যাপ'? তাঁদের দাবি, স্মল ক্যাপ মূলত বেসরকারি হাসপাতালে বেশি দেখা যায়।
কোভিডের সময় থেকে অবশ্য নার্সদের ক্যাপ ব্যবহারে বড় পরিবর্তন আসে। সংক্রমনের আশঙ্কায় বারবার ক্যাপ ধোয়া ও পরিষ্কার করা কঠিন হওয়ায় বহু হাসপাতালে ক্যাপের ব্যবহার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও সার্জিক্যাল ক্যাপ, কোথাও অন্য ধরনের মাথার আবরণ ব্যবহার শুরু করা হয়। কিন্তু, অতিমারী শেষ হওয়ার পরেও পুরনো ড্রেসকোড ফেরানোর বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা ছিল না।
স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশ অবশ্য বলেছেন, এটি কোনও নতুন নিয়ম নয়। ২০১৩ সালের একটি নির্দেশিকাতেও স্মল ক্যাপের উল্লেখ ছিল। অর্থাৎ এবার পুরনো নিয়ম লিখিতভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তবে, নার্স সংগঠন বা নার্স ইউনিটির অভিযোগ, বর্ধমানের ঘটনার পর তড়িঘড়ি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, ক্যাপের ধরন নির্ধারণের আগে নার্সদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। একটি ছোট ক্যাপ ঘিরে এখন বড় বিতর্ক রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়।