উত্তরপ্রদেশ, নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে নিজের তৃতীয় স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠল সমাজবাদী পার্টির প্রাক্তন বিধায়ক গুড্ডু পণ্ডিতের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই নেতা তাঁর স্ত্রী অর্চনা পণ্ডিতের চুল টেনে হিঁচড়ে ঘরের মেঝেতে ফেলে নিয়ে যাচ্ছেন, আর আত্মরক্ষার তাগিদে অর্চনা ঝাঁটা হাতে তাঁকে প্রতিরোধের মরিয়া চেষ্টা করছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শিকারপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা।
সূত্র: https://x.com/NewsAlgebraIND/status/2095915474244792761
জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর শিকারপুরের আরটিও অফিসের কাছে অর্চনার বাসভবনে এই তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। অর্চনা জানিয়েছেন, সেদিন তিনি তাঁর ছেলে সমর পণ্ডিতকে নিয়ে বাড়িতেই ছিলেন। হঠাৎই গুড্ডু পণ্ডিত এসে দরজায় সজোরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন এবং চিৎকার করে তাঁকে বাইরে আসতে বলেন। দরজা খোলা মাত্রই তিনি ভেতরে ঢুকে অর্চনার ওপর চড়াও হন এবং বেধড়ক মারধর শুরু করেন। অর্চনার চিৎকার শুনে বাড়ির পরিচারিকা ছুটে এসে মোবাইলে পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করতে থাকলে বেগতিক বুঝে সরে যান ওই প্রাক্তন বিধায়ক।
এই পারিবারিক হিংসার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই। অর্চনা ও গুড্ডু পণ্ডিতের দাম্পত্য কলহ প্রায় দু’বছর ধরে চলছে এবং তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
অর্চনার অভিযোগ, সেই মামলা প্রত্যাহার করার জন্য গুড্ডু ও তাঁর পরিবারের লোকজন লাগাতার তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা অর্চনা নিজের ও ছেলের প্রাণ বাঁচাতে বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা মহিলা পুলিশ মোতায়েনেরও আবেদন জানিয়েছেন।
শিকারপুরের সার্কেল অফিসার প্রখর পাণ্ডে জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজটি পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কাজল শর্মা ও শীতল নামে গুড্ডু পণ্ডিতের আরও দুই স্ত্রী রয়েছেন, অর্চনা তাঁর তৃতীয় স্ত্রী। তবে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মারধরের ভিডিওটির সত্যতা এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।