কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ফের ঘনিয়ে আসছে ‘এল নিনো’র আশঙ্কা। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতার জেরে সৃষ্ট এই প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা বিশ্ব জুড়েই বৃষ্টি ও তাপমাত্রার ধরণ বদলে দিতে পারে।
ভারতে সাধারণতঃ এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায়, সেই সঙ্গে তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই দেশগুলিকে প্রস্তুতি এবং আগাম সতর্কতা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে WMO এবং সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া দফতরগুলি।
WMO-র রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষের দিকে আরও শক্তিশালী হতে পারে এল নিনো। এমনকি তা অত্যন্ত শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য-পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের জল ইতিমধ্যেই স্বাভাবিকের তুলনায় যথেষ্ট উষ্ণ।
এল নিনোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক নিনো ৩.৪-তে গত মে থেকে জুলাইয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। জুলাইয়ে সেই পার্থক্য বেড়ে হয়েছে ২ ডিগ্রি। জুলাইয়ের শেষ থেকে অগাস্টের মাঝামাঝি সময়ে সাপ্তাহিক হিসাবে তা আরও বেড়ে ২.২ থেকে ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে পৌঁছেছে।
শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠ নয়। সমুদ্রের নিচের জলও অস্বাভাবিক গরম। জুলাই ও অগাস্টের গোড়ায় প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি এলাকায় ভূপৃষ্ঠের নীচের জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল। ফলে এল নিনোর শক্তি আরও বাড়ার পক্ষে পরিস্থিতি অনুকূল বলেই মনে করছেন আবহবিদেরা। WMO-র মহাসচিবের কথায়, ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খরা ও বন্যার মতো বিপর্যয়ের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এল নিনো আরও শক্তিশালী হলে সেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বিপদের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ভারত মহাসাগরে ‘পজিটিভ ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ বা IOD তৈরি হতে পারে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বর পর্বে IOD-এর গড় মান ০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস। ইতিবাচক IOD সাধারণতঃ এল নিনোর কারণে ভারতের বর্ষায় তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা কমাতে পারে। তবু এল নিনোর সম্ভাব্য শক্তিবৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের কথা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুত থাকার পরামর্শই দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।