কলকাতা, কেয়া মণ্ডল: শহরে ফের অগ্নিকাণ্ড।শনিবার গভীর রাতে ভবানীপুরের বকুলবাগান রোডে একটি বাড়ির মিটারবক্সে আচমকা আগুন লাগে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একটি ইঞ্জিন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসেন সিইএসসি-র কর্মীরাও।
দমকলকর্মীদের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। আগুন যাতে মিটারবক্স থেকে বাড়ির অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি বলে জানা গিয়েছে। তবে আচমকা আগুনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই বাড়ির বাসিন্দারা।
পুলিশ ও দমকল সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, শর্ট সার্কিটের কারণেই মিটারবক্সে আগুন লেগে থাকতে পারে। যদিও ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সিইএসসি-র কর্মীরা মিটারবক্সটি পরীক্ষা করে দেখছেন। দমকলের তরফেও ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত বুধবার (১৯ অগাস্ট) ভোররাতে আগুন লাগে নিউ মার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। হোটেলের ভিতরে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁরা কলকাতায় এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বলে খবর।
ইতিমধ্যে,হোটেলের লিজ-হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী দল। বুধবার গভীর রাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তের স্বার্থে হোটেলের আরও দু’জন কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে একজন হোটেলের ম্যানেজার এবং অন্যজন কর্মী। অগ্নিকাণ্ডের আগে হোটেলের পরিস্থিতি কেমন ছিল, আগুন লাগার পর কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল এবং উদ্ধারকাজে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তাঁদের কাছ থেকে সেই সংক্রান্ত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।