কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: শীর্ষ আদালতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। ইথানল মামলায় ফেরত আবেদনকারী, এজেন্সির নিরপেক্ষতা নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ বিচারপতির। গ্রাহকের জানার অধিকার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজের ধারা সোমবার সুপ্রিম কোর্টে দুটি পৃথক মামলায় উঠে এল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ।
একদিকে জ্বালানিতে ইথানলের অনুপাত স্পষ্ট করার দাবিতে দায়ের হওয়া মামলা সরাসরি শুনতে অস্বীকার করে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিল শীর্ষ আদালত। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়ের আগাম জামিন মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির গতিপ্রকৃতি ও ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিচারপতিরা।
পেট্রোলে ইথানল মেশানোর সঠিক পরিমাণ দেশের সমস্ত পেট্রোল পাম্পে ডিসপ্লে বা লেবেল আকারে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন আইনজীবী নরেন্দ্র কুমার গোস্বামী। তাঁর যুক্তি ছিল, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের উপাদানের মতোই গ্রাহক যে জ্বালানি কিনছেন, তাতে ইথানলের শতকরা হার কতটা তা জানার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। সর্বত্র ‘E20’ লেবেল থাকে না বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে বিচারপতি এম এম সুন্দরেশের বেঞ্চ আবেদনকারীর সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি জানান, ইথানল নীতি নিয়ে আগের আবেদনগুলি আগেই খারিজ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবেদনটি গ্রহণ না করে মামলাকারীকে হাইকোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।
অন্য একটি মামলায়, তৃণমূল সাংসদের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আর্জির শুনানিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানিপর্ব চলাকালীন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’ সংস্থার অ্যাকাউন্টে একটি রাজনৈতিক দলের থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ তোলেন।
তখনই বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, এই সংস্থার প্রসঙ্গ এজেন্সির পক্ষে যত কম টানা যায়, ততই মঙ্গল। কলকাতা হাইকোর্টে অতীতেও এই তদন্ত ঘিরে একাধিক নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় এজেন্সি কখনও অদ্ভুতভাবে শ্লথ গতিতে চলে, আবার কখনও হঠাৎ অতি-সক্রিয় হয়ে ওঠে। অথচ তদন্ত প্রক্রিয়ায় সব সময় নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা কাম্য।
শুনানিতে সুমিত রায়ের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ অভিযোগ তোলেন, ১১ দিন ধরে ভিডিওগ্রাফি সহ দীর্ঘ জেরা চললেও মূল অভিযোগ নিয়েই কোনও প্রশ্ন করা হয়নি। যদিও সলিসিটর জেনারেল পালটা দাবি করেন, সব প্রাসঙ্গিক তথ্য ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ যথাসময়ে আদালতে জমা দেওয়া হবে।