কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: অপারেশন শেষ সাথে চিকিৎসকের কাজও নাকি শেষ। কিন্তু হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসার পরও রোগীর দুশ্চিন্তা শেষ হচ্ছিল না। চিকিৎসকেরা দেখেছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে এবং তারপর হয়েছে অস্ত্রপচার। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ফেরার পরেও যখন তাঁর সমস্যা একই রয়ে গেল, তখন সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। ফের চিকিৎসকের কাছে যেতে এমন তথ্য সামনে এল, যা কার্যত মাথায় হাত পড়ার মতোই। এরপর গোটা ঘটনায় উঠতে থাকে একের পর এক প্রশ্ন।
ঘটনাটি কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বা এনআরএসএর। অভিযোগটি মূলত ভুল অস্ত্রপচারের বিরুদ্ধে। সূত্রে খবর, বেলেঘাটার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৪৭ বছরের গোপাল পোড়েল তাঁর পেটে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসার জন্য এনআরএসএ গিয়েছিলেন।
সেখানে পরীক্ষায় গলব্লাডারে স্টোন ধরা পড়ে। সেই সমস্যার অস্ত্রোপচারের জন্য মূলত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পরেও তাঁর পেটে ব্যথা কমেনি। পরে চিকিৎসকের কাছে গেলে জানতে পারেন গলব্লাডারের পাথর নাকি এখনও রয়েছে। অথচ তাঁর অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই অভিযোগ সামনে আসতে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে যদি এভাবে ভুল অস্ত্রপ্রচার হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন, এই প্রশ্ন ঘিরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুনাল ঘোষ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় রোগীর ছবি দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে ট্যাগ করেন তিনি। এরপর ঘটনাটি নিয়ে নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফেও রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। যদিও এনআরএসএ চিকিৎসা বিভ্রান্তির অভিযোগ মঙ্গলবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খারিজ করে দেন।
এরইমধ্যে, গোপাল বাবুর সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে কথা বলা হয় এবং হাসপাতালের চিকিৎসার যাবতীয় নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গোপাল বাবুর দাবি, তাঁর আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চিকিৎসার জন্য তাঁকে আর্থিকভাবে সাহায্য করবেন বলে জানান। তবে, অভিযোগের সত্যতা শেষপর্যন্ত কি দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার। সত্যিই কি অস্ত্রপ্রচারে ভুল হয়েছিল, নাকি ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ, তা স্পষ্ট হবে তদন্তের পরেই।