কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: সুমিত রায়ের আগাম জামিন মামলার শুনানিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালীন তদন্তের গতি ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়ে ইডি। একইসঙ্গে আলোচনায় ওঠে আসে‘লিপস অ্যান্ড বাউন্সের প্রসঙ্গ।
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে সুমিতের মামলার শুনানি চলছিল। কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ কোটি টাকা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর মতো একটি ‘দাগী’ সংস্থার অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল। এরপরই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি মন্তব্য করেন,‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস মামলার কথা যত কম বলা যায়, ততই ভাল। তদন্তের ‘শ্লথগতি’ নিয়ে মন্তব্য করেন।’
আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, তদন্তে যে আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। প্রায় ২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মাত্র ১০ লক্ষ টাকা চেকের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। বাকি টাকা নগদে রাখা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। তাই সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় রাজ্য।
খামবন্দি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরেও আরও প্রায় ২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মাত্র ১০ লক্ষ টাকা চেকের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। বাকি টাকা নগদে রাখা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। তাই সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় রাজ্য।
অন্যদিকে সুমিত রায়ের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ আদালতে জানান, তদন্তকারীরা যতবার তাঁকে ডেকেছেন, তিনি ততবার হাজির হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও জমি বা সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, গোটা জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে এবং আদালত সেটি দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শালবনিতে জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিতের অন্তর্বর্তী সুরক্ষাকবচ আগামী সোমবার পর্যন্ত বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত। তবে এ পর্যন্ত তাঁকে যে সমস্ত প্রশ্ন করা হয়েছে এবং তার যে উত্তর মিলেছে, সেই সমস্ত জিজ্ঞাসাবাদের সম্পূর্ণ ট্রান্সক্রিপ্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।