কলকাতা, স্নিগ্ধা চৌধুরী: ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা তুঙ্গে, তখন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। শনিবার একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, তিনি নির্দ্বিধায় ‘বন্দে মাতরম’ বলেন। তবে তাঁর কাছে এই উচ্চারণ কোনও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ নয়, বরং ইতিহাস, শিকড় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি।
তসলিমা লিখেছেন, ‘বন্দে মাতরম’ বলার সময় তিনি কোনও ধর্মীয় পরিচয় ঘোষণা করেন না। তাঁর বক্তব্য, এই উচ্চারণের মাধ্যমে তিনি নিজের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক শিকড়কে স্বীকার করেন। দেশভাগের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। তিনি জানান, ১৯৪৭ সালে সীমান্তরেখা ভূগোলকে ভাগ করলেও ইতিহাস, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও স্মৃতিকে কাঁটাতারের মাধ্যমে ভাগ করা সম্ভব হয়নি।
বাংলা ও বৃহত্তর ভারতীয় সভ্যতার সম্পর্ক নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন তসলিমা। তাঁর মতে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আদানপ্রদানের মধ্য দিয়েই বাংলা নিজের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় তৈরি করেছে। একইসঙ্গে বাংলা ভারতীয় সভ্যতা থেকেও যেমন গ্রহণ করেছে, তেমনই সাহিত্য, সংগীত, চিন্তা, সংস্কার ও বিদ্রোহের মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
তসলিমার বক্তব্যে উঠে এসেছে ‘অখণ্ড ভারতমাতা’ প্রসঙ্গও। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই ধারণার মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক অখণ্ড ভারতের দাবি করছেন না। বরং দেশভাগের আগের সেই সাংস্কৃতিক ভারতবর্ষকে তিনি স্মরণ করেন, যার ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর পূর্বপুরুষ এবং বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি দীর্ঘ সময় পর কলকাতায় এসেছিলেন তসলিমা নাসরিন। তাঁর সফর ঘিরে নতুন করে আলোচনাও তৈরি হয়। রবীন্দ্রসদনে তাঁকে নাগরিক সম্মান দেওয়া হয় এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস দেন।
‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে তসলিমার সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একইসঙ্গে নিজের বক্তব্যে তিনি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে বহুত্ববাদ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।