নিউজ ডেস্ক: কূটনীতির মঞ্চে কখনও কখনও একটি আমন্ত্রণই পরিস্থিতি বদলের ইঙ্গিত দিতে পারে। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করা বা না করা, দুই ক্ষেত্রেই লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যখন দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়নের মধ্যে থাকে, তখন কোনও রাষ্ট্রনেতার সীমান্তের বাইরে পা পড়ার আগেই শুরু হয়ে যায় কূটনৈতিক হিসাব নিকাশ। এবারও ফের তেমনই একটি আমন্ত্রণকে ঘিরে দিল্লি থেকে ইসলামাবাদ, দুই রাজধানীতেই শুরু হয়েছে নজরদারি।
সূত্রে খবর, ২০২৭ সালে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর শীর্ষ সম্মেলন আয়োজিত হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। আর সেই সম্মেলনে যোগদান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। রাজনৈতিক মহলে তাই প্রশ্ন ১২ বছর পর প্রধানমন্ত্রী কি ফের পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন?
বিশকেকে SCO সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছে পাকিস্তান। আগামী বছর সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের বার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করবে ইসলামাবাদ। সেই কারণেই এবার সদস্য রাষ্ট্রগুলির শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এবং এর পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে, আমন্ত্রণ পাওয়া মানেই যে মোদীর ইসলামাবাদের সফর নিশ্চিত, তা নয়। কারণ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি বিচার করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নয়া দিল্লি। যদিও এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত SCO সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী যাননি।
তার পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয় শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রী পদে যোগদানের পর মোদি মাত্র একবার পাকিস্থানে গিয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আফগানিস্তান সফর শেষে ফেরার পথে আচমকায় লাহোরে তিনি নেমেছিলেন। সেই সফর ছিল অপ্রত্যাশিত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশকেকের সাম্প্রতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তিনি বক্তব্য রাখেন কোনও দেশ যেন সন্ত্রাসবাদকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করতে পারে। পাল্টা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জলবন্টন কে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার কথা বলেন।
তাই এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না ২০২৭ সালে মোদির বিমান ইসলামাবাদের মাটিতে নামবে কি না। সেইজন্য ইসলামাবাদের এই আমন্ত্রণ আপাতত শুধু আমন্ত্রণ। তবে, ১২ বছর পরে মোদির পাকিস্তান সফরের সম্ভাবনার দরজা সামান্য হলেও খুলছে কি না, তা নিয়ে আপাতত নজর রাজনৈতিক মহলের।