কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ব্যস্ত শহর রাঁচি। প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছে হাজার, হাজার মানুষ। ব্যস্ততা ভরা এই শহরে দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী যুবককে। রাঁচির আরগোড়া মোড়ে প্রতিদিন সবজির পসরা সাজিয়ে বসেন এক যুবক। কখনও আবার স্টিয়ারিং হাতে ক্যাব চালিয়ে যাত্রীদের পৌঁছে দেন নিজেদের গন্তব্যে। খুব সাধারণভাবে নিজের জীবন কাটান তিনি। কিন্তু এই সাধারন সাদামাটা জীবনের পেছনেই লুকিয়ে রয়েছে এক গৌরবময় ইতিহাস। রয়েছে দেশের হয়ে লড়াই করার অদম্য জেদ। আর এত সফলতার মাঝে এক হতাশার গল্প।
ঝাড়খণ্ডের ২৯ বছরের থ্রো-বল খেলোয়াড় অমরদীপ। আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের জন্য চারটি সোনার পদক জিতেছেন তিনি। দেশের জন্য কিছু করে দেখানোর জেদ রয়েছে তাঁর মধ্যে। কিন্তু এখনও তাঁর ভাগ্যে জোটেনি সরকারি চাকরি। সংসারের খরচ চালাতে এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে তাই খেলাধুলার মাঠ ছেড়ে তাঁকে কখনও সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে, কখনও আবার ক্যাব চালিয়ে রোজগার করতে হচ্ছে।
অমরদীপের দাবি, ২০১৬ সাল থেকে তিনি প্রাপ্য অর্থের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর ২০২০ সাল থেকে সরকারি চাকরির আশায় বিভিন্ন স্তরে আবেদন এবং চেষ্টা করছেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও এখনও অধরাই রয়ে গিয়েছে সেই চাকরির স্বপ্ন।
এই পথ কোনওভাবেই সহজ ছিল না অমরদীপের কাছে। আর্থিক প্রতিকূলতা বরাবরই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জীবনে। বিদেশে খেলতে যাওয়ার খরচ জোগাড় করতে একাধিকবার তাঁকে ঋণের বোঝা কাঁধে নিতে হয়েছে। এমনকি মালয়েশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে তাঁকে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। আর সেই ঋণ মেটাতে মেটাতেই রীতিমতো কাহিল হয়ে পড়েছেন তিনি।
একদিন যে হাত দেশের জন্য সোনার পদক তুলে ধরেছিল, আজ সেই হাতেই সবজির ওজন মাপার দাঁড়িপাল্লা। গলায় চারটি সোনার পদকের থাকলেও জীবনযুদ্ধে এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অমরদীপ। তবুও নিজের স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দেননি তিনি। আজও তিনি আশার আলো দেখছেন দেশের জন্য কিছু করা।
দেশের জন্য একের পর এক সম্মান এনে দিয়েছেন অমরদীপ কিন্তু আজ তিনি নিজেই ব্রাত্য। না মিলেছে সরকারি চাকরি না মিলেছে স্বীকৃতি। কিন্তু দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতে ভুলে যাননি তিনি। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামীদিনে তার জন্য সরকার কোনও উদ্যোগ নেয় কিনা সেটাই দেখার।