স্পোর্টস ডেস্ক: একের পর এক চোটের বর্তমানে টিম ইন্ডিয়া কার্যত পরিণত হয়েছে মিনি হাসপাতালে। এই পরিস্থিতিতে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ বার আরও কড়া অবস্থান নিতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। শোনা যাচ্ছে, দলে জায়গা পেতে হলে এ বার আর কোনও ক্রিকেটারকে ১০০ শতাংশ ফিট হলে চলবে না। বরং বিসিসিআই চাইছে ২০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে। যার ইঙ্গিত মিলেছে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণাতেই। ১৫ জনের দলের জশপ্রীত বুমরাহ, নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর এবং হর্ষিত রানা থাকলেও তাঁদের নামের পাশে দেওয়া হয় তারকা চিহ্ন। অর্থাৎ, তাঁদের মাঠে নামা নির্ভর করছে ফিটনেস পরীক্ষায় পাশ করার ওপর। সাম্প্রতিককালে একাধিক চোট পাওয়া ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেই জাতীয় দলে ঠাঁই পেয়েও ছিটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এই নতুন নীতি বলে দাবি করা হয়েছে একটি রিপোর্টে।
গত কয়েক মাসে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের চোট সারানোর পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। হর্ষিত, বুমরাহ, ওয়াশিংটন এবং নীতীশ-সহ একাধিক ক্রিকেটারকে তাড়াহুড়ো করে দলে নেওয়া হলেও পরে চোটের কারণে তাঁদের বাইরে চলে যেতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ বার আরও সতর্ক হতে চাইছে বোর্ড। এক জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইটের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচকেরা কোনও ক্রিকেটারের ফিটনেস নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত না হলে তাঁকে সরাসরি দলে নেওয়া হবে না। বোর্ডের এক সূত্রের কথায়, “১০০ শতাংশ নয়, ক্রিকেটার খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ২০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।”
ফিটনেস নিয়ে এই নতুন ব্যবস্থার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সিওই-র প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ। তাঁর বক্তব্য, দল নির্বাচনের সময় কোনও ক্রিকেটার পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকলেও ভবিষ্যতে সিরিজ শুরুর আগে তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তাই সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই ফিটনেস সাপেক্ষে উক্ত ক্রিকেটারকে দলে রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনের সময়ই জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ওই ক্রিকেটার শেষ পর্যন্ত ফিট না হলে তাঁর জায়গায় কারা দলে আসতে পারেন। বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াও বলেছেন, সাধারণতঃ কোনও বিদেশ সফরের ৩-৪ সপ্তাহ আগে দল ঘোষণা হয়। ফলে নির্বাচনের দিন কোনও ক্রিকেটার পুরোপুরি ফিট না থাকলেও ২১ বা ২৮ দিনের মধ্যে তিনি ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় চলে আসতেই পারেন। সেই কারণেই তাঁকে একেবারে বাতিল করা হচ্ছে না।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজে বুমরাহ এবং নীতীশের ফিটনেস নিয়ে অবশ্য আশাবাদী বোর্ড। দিল্লিতে ১৩ সেপ্টেম্বর প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগেই দু’জনেই পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন সুন্দর ও হর্ষিত রানাকে নিয়ে নিশ্চিত করে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তাঁদের ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ সিওই। ফলে এ বার নির্বাচনের পরেও ফিটনেসের পরীক্ষা চলবে। চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে ক্রিকেটার বদলের পুরনো ছবিটা বদলাতেই যে বোর্ডের এই নতুন কড়া অবস্থান, তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।