স্পোর্টস ডেস্ক: আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাধারণ সভা। সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে তার আগেই বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে বসছে একটি ‘পর্যালোচনা বৈঠক’। যেখানে জবাব চাওয়া হতে পারে টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ গৌতম গম্ভীর, নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকার এবং বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের কাছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সিরিজে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় এ বার ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্তারিত কাটাছেঁড়া করতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
যদিও এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ইংল্যান্ড সফরের পরেই। তবে জিম্বাবুয়ে সফর এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের কারণে তা পিছিয়ে যায়। এ বার শেষ পর্যন্ত ৩ সেপ্টেম্বর সেই বৈঠক হতে চলেছে। যেখানে আলোচনায় উঠে আসতে পারে ভারতের সাম্প্রতিক ফলাফল। আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পর পর দুটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে হার।
আর তার ঠিক পরেই ইংরেজদের কাছে ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়। সব মিলিয়ে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। যদিও জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে ভারত। তবু সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্টই উদ্বিগ্ন বোর্ড।
কোন জায়গায় ভুল হয়েছে? কোথায় উন্নতির প্রয়োজন, এবং আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলির আগে কী ভাবে দলকে তৈরি করা হবে? মূলতঃ এ সব নিয়ে আলোচনা করতেই তলব করা হয়েছে গম্ভীর-আগরকারকে। পাশাপাশি চোট-আঘাত এবং ক্রিকেটারদের ফিটনেসও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে।
বিশেষ করে উদ্বেগ রয়েছে হার্দিক পাণ্ডিয়াকে নিয়ে। এ বছর ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা নেওয়া হার্দিক আগামী ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপের পরিকল্পনাতেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক চোট ৫০ ওভারের ফরম্যাটে তাঁকে দিয়ে কতটা বোলিং করানো সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সংশয় তৈরি করেছে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণাতেও চোট-সমস্যার প্রভাব স্পষ্ট। হার্দিককে রাখাই হয়নি দলে। এ ছাড়া জশপ্রীত বুমরাহ, ওয়াশিংটন সুন্দর, নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং হর্ষিত রানার নাম থাকলেও তাঁদের মাঠে নামা নির্ভর করছে সেই সময় তাঁরা কতটা ফিট থাকবেন তার ওপর। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এই মুহূর্তে এতটাই সঙ্গীন যে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না বোর্ড। সেই কারণেই সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গেও খোলাখুলি কথা বলতে চাইছে বিসিসিআই।
সামনের ব্যস্ত ক্রিকেটসূচিও এই বৈঠকের বড় বিষয় হতে চলেছে। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফর, ঘরের মাঠে বর্ডার-গাভাস্কর ট্রফি এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। মূলতঃ এই তিন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের কথা মাথায় রেখেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরি করতে চাইছে বোর্ড।
পাশাপাশি ক্রিকেটারদের চোটের প্রবণতা কমানো, ফিটনেস ব্যবস্থার উন্নতি এবং দলের ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এ দিকে এর পরই মুম্বইয়ে বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচিত হওয়ার কথা আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের দু’জন প্রতিনিধির। সেই সভায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-সহ একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেট প্রশাসক ও সব রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা।