স্পোর্টস ডেস্ক: সিটির আকাশি জার্সিতে মাঠে ঝড় তোলার আগেই ট্রান্সফার মার্কেটে ঝড় তুললেন এনজো ফার্নান্দেজ। এতদিন চেলসির হয়ে খেলা আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে রেকর্ড ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে সই করাল ম্যানচেস্টার সিটি। গত বছর এই একই মূল্যে নিউক্যাসেল ইউনাইটেড থেকে আলেকজান্ডার ইসাককে দলে শামিল করেছিল লিভারপুল।
ফলে এনজোর হাত ধরে আবারও ইতিহাসের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি-র তালিকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ব্রিটিশ ফুটবল। সিটিতে ৫ বছরের চুক্তিতে সই করেছেন মেসির সঙ্গে খেলা ২৫ বছর বয়সি তারকা। তাঁর আগমনে আরও শক্তিশালী হল পেপ গুয়ার্দিওলার দলের মাঝমাঠ।
এনজোর দলবদলের গল্প অবশ্য বেশ কয়েক মাস ধরেই চলছিল। চেলসি ছাড়ার ইচ্ছা তিনি প্রথম জানিয়েছিলেন ৩ মাসেরও বেশি আগে। এর পর তাঁর জন্য প্রস্তাব চেয়ে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল লন্ডনের ক্লাবটি। শেষ পর্যন্ত ম্যান সিটির ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাবে সম্মতি দেয় চেলসি।
মজার বিষয়, সাড়ে ৩ বছর আগে বেনফিকা থেকে ১০৭ মিলিয়ন পাউন্ডে এনজোকে কিনেছিল চেলসি। তাঁকে বিক্রি করে তাই প্রায় ১৮ মিলিয়ন পাউন্ড লাভ করল তারা। নতুন ক্লাবে এনজো আবার কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁর প্রাক্তন চেলসি কোচ এনজো মারেস্কার সঙ্গে।
যদিও দলবদলের বাজারে চেলসির জন্য রাতটা স্বস্তির ছিল না মোটেই। এনজোর বিকল্প হিসাবে মোনাকোর লামিনে কামারাকে প্রায় ৪৭ মিলিয়ন পাউন্ড দামে নেওয়ার চুক্তি করেছিল তারা। ৬ বছরের চুক্তির প্রস্তুতিও হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল শুধু মেডিক্যাল। কিন্তু ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ মুহূর্তে সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় মোনাকো।
চেলসির দাবি, দুই ক্লাবের মধ্যে লিখিত সমঝোতাও হয়ে গিয়েছিল। এই অবস্থায় মোনাকোর এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং ‘অপেশাদার’ বলে মনে করছে চেলসি। ফলে এনজোকে বিক্রি করার পর তাঁর জায়গায় সরাসরি কাউকে আনার পরিকল্পনাও ভেস্তে গিয়েছে।
নতুন ক্লাবে পা রেখে এনজো নিজে অবশ্য রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। তাঁর কথায়, "সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। আর এমন দলের অংশ হতে চায় প্রত্যেক ফুটবলারই।" ইতিহাদ শিবিরে এসে ট্রফি জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাঁর লক্ষ্য। নতুন সতীর্থদের কাছ থেকে শিখে আরও উন্নতি করতে চান বলেও জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপজয়ী তারকা।
অন্য দিকে চেলসিকে বিদায় জানিয়ে আবেগঘন বার্তায় এনজো বলেন, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ এবং কোভহ্যাম তাঁর ও তাঁর পরিবারের কাছে ঘরের মতো হয়ে গিয়েছিল। চেলসি তাঁর হৃদয়ে চিরকাল জায়গা করে থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে ফুটবলে কখনও কখনও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়। আর সেই সিদ্ধান্তেই তাঁর ঠিকানা এ বার ম্যানচেস্টার।