স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেটের ২২ গজে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর দুটি ছবি দেখা গেল বিশ্বের দুই প্রান্তে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্টে পাক ব্যাটার ইমাম-উল-হকের চোট নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই সময়ই কেরল ক্রিকেট লিগের ম্যাচে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই মাঠে নেমে শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন জনৈক ক্রিকেটার। যাঁর নাম, এ কে অর্জুন। ফলে চোটের দুই ভিন্ন ছবিই এখন ভাইরাল নেট পাড়ায়। তবে ইমামের বিরুদ্ধে চোটের নাটক করার অভিযোগ উঠলেও, অর্জুনের লড়াই মন জিতে নিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সদ্যসমাপ্ত দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই কাফে চোট পেয়েছিলেন ইমাম। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মেডিক্যাল দল তাঁকে পরীক্ষা করার পর জানিয়ে দেয়, ওই ম্যাচে আর ব্যাট করতে পারবেন না তিনি। কিন্তু ম্যাচের চতুর্থ দিনে মাঠে তাঁকে দেখা যায় শর্টস পরে। বাঁ পায়ে মোটা টেপ জড়ানো। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে তাঁকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে থ্রোডাউন অনুশীলন করতেও দেখা যায়। সেই দৃশ্য নিয়েই প্রশ্ন তোলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। তাঁর বক্তব্য, এমন অনুশীলন ইনডোরেও করা যেত। মাঠে এসে ক্যামেরার সামনে এ ভাবে খুঁড়িয়ে হাঁটার প্রয়োজন ছিল না।
এর পরেই ইমামের চোট নিয়ে সমাজ মাধ্যমে শুরু হয় নানা মন্তব্য। বিশেষ করে, বিমান বন্দরের একটি ছবিতে তাঁকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা যাওয়ার পর অভিযোগ আরও জোরালো হয়। যদিও পাকিস্তানের মেডিক্যাল টিম তাঁর চোটের কথা আগেই জানিয়েছিল। সেই বিতর্কের মাঝেই কেরল ক্রিকেট লিগে সম্পূর্ণ অন্য এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট দুনিয়া। ক্যালিকট গ্লোবস্টার্সের বিরুদ্ধে থ্রিসুর টাইটান্সের জিততে শেষ বলে দরকার ছিল ৪ রান। শ্যারন এসএস আউট হওয়ার পর ব্যাট হাতে নামতে হয় এ কে অর্জুনকে।
কিন্তু অর্জুন তখন গুরুতর চোটে কাবু। ঠিক মতো হাঁটতেই পারছিলেন না। ব্যাটকে কার্যত লাঠি বানিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ক্রিজে পৌঁছন তিনি। হাতে মাত্র একটি বল, জয়ের জন্য প্রয়োজন ৪ রান। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিকে একেবারেই পাত্তা না দিয়ে শেষ বলটিতে ছক্কা হাঁকিয়ে দলের হয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন ভারতীয় ব্যাটার। এর পর মাঠে তাঁর সেই অদম্য লড়াইয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসায় ভাসতে শুরু করেন। ইমামকে ঘিরে বিতর্কের আবহে তাঁর এই সাহসী ইনিংস যেন ক্রিকেটের অন্য এক বার্তাই দিল। চোট কখনও কখনও বাধা হতে পারে। কিন্তু জয়ের তাগিদ থাকলে লড়াই কখনওই থামতে পারে না।