নিউজ ডেস্ক: ‘প্রত্যর্পণ’ একেবারেই নয়। বরং নিজের ইচ্ছেতেই ঘরে ফেরার বার্তা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "সারা জীবন কি বিদেশে থাকতে পারি? নিজের দেশ, নিজের মানুষের কাছে তো আমাকে ফিরতেই হবে।" গত ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে ছাত্র আন্দোলনের জেরে তাঁর সরকারের পতনের পর থেকেই ভারতে কার্যত স্বেচ্ছা-নির্বাসনে রয়েছেন ৭৮ বছরের আওয়ামী লিগ নেত্রী। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর দাবি, এই ফেরার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর কিংবা ভারত-বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির কোনও সম্পর্ক নেই।
এ দিকে হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁর সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে ঢাকা-নয়াদিল্লির সম্পর্কে। গত ৫ অগাস্ট নয়াদিল্লি থেকে একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন করেন হাসিনা। সেই সময় তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। হাসিনার ওই কর্মকাণ্ডে সেই প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল ঢাকা। এমনকি তাঁর প্রত্যর্পণকেও ভারত সফরের অন্যতম শর্ত হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল। হাসিনার অবশ্য পাল্টা বক্তব্য, "আমি নিজের দেশে ফিরতে চাইছি। এতে আপত্তির কারণ বুঝতে পারছি না।" তাঁর দাবি, সত্যি কথা বলার কারণে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট হয় না। বরং গণতন্ত্রের অবক্ষয়, উগ্রপন্থার উত্থান, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসাই সম্পর্কে আঘাত হানে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকারের চিনের কাছ থেকে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলারে যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। তাঁর প্রশ্ন, এত কঠিন পরিস্থিতিতে কেন এই বিলাসিতা?" মূলতঃ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্কটের মধ্যে এত বিপুল অর্থ খরচ করে যুদ্ধবিমান কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন যে ওঠাই স্বাভাবিক সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন হাসিনা। পাশাপাশি নিজের ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সেই আশঙ্কার কথাও ফের তুলে ধরেন যে, বাংলাদেশ "আরেকটি পাকিস্তান" হওয়ার পথে এগোচ্ছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আল কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS) সন্ত্রাসী ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করতে পারে। স্থানীয় তদন্তেও একই ধরনের বিপদের ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, তারেক রহমানকে ইতিমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক সফরের পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। যদিও সেই আমন্ত্রণে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও সাড়া দেয়নি। ফলে হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা এবং তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে দু’দেশের টানাপোড়েন আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তবে হাসিনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কোনও রাজনৈতিক দরকষাকষির অংশ নয়। নিজের দেশ ও মানুষের কাছে ফেরার ইচ্ছাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড়, এমনটাই বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।