নিউজ ডেস্ক: বিয়ের আনন্দে মাতোয়ারা তখন গোটা পরিবার। হঠাতই হামলা আকাশ থেকে! মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবহে ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলায় মৃত্যু হল অন্তত ৫ জনের। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৪ বছরের এক শিশুও। এ ছাড়া আহত অন্ততঃ ৫০ জন। ইরানের সরকারি আধিকারিক এবং একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, হরমুজ প্রণালীর কাছে উপকূলীয় এলাকায় ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে অতর্কিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। আচমকা হামলায় উৎসবের পরিবেশ মুহূর্তে পরিণত হয় শোকের আবহে।
তেহরানের দাবি, হামলায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘এই নিষ্ঠুরতাকে তার আগের ধারাবাহিক নৃশংস ঘটনাগুলির থেকে আলাদা করে দেখা যায় না।’’ তাঁর বক্তব্যে মিনাবের একটি স্কুলে বিস্ফোরণের ঘটনাটিও উঠে এসেছে। ইরানের দাবি, চলমান যুদ্ধের প্রথম দিনেই মেয়েদের ওই স্কুলে বিস্ফোরণে ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
ঘটনার পর থেকেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আমেরিকা-ইরান সংঘাতের পরিস্থিতি। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ১ সেপ্টেম্বরের ওই অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ভিডিও-ও প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে একটি সামরিক বিমানকে উড়ানের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে এই হামলার বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের তরফে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। ফলে ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই বিয়ের আসর হামলার মুখে পড়ল, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দুই দেশের সামরিক সংঘাতের মধ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো একটি সামাজিক তথা বেসামরিক জমায়েতে হামলায় শিশু-সহ প্রাণহানির ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও বাড়ল। ইরান ইতিমধ্যেই ঘটনাটিকে ‘নৃশংসতা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা করেছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহলও। তবে হামলার প্রকৃত কারণ, লক্ষ্য এবং মার্কিন অভিযানের সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানের যোগসূত্র কী? এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও পাল্টা বিবৃতির মধ্যেই নতুন করে বাড়ছে উত্তেজনা।