দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: সকালের ব্যস্ততা তখনও পুরোপুরি জমে উঠেনি । প্রতিদিনের মতোই কাকদ্বীপের রাস্তাতে চলছিল যানবাহন ও বাজারে ছিল চেনা ভিড়। কিন্তু হঠাৎ করেই চোখে পড়লো এক অন্যরকম তৎপরতা। একদল মানুষ ছুটছেন, কখনও আবার বিপদকালীন পরিস্থিতিতে কিভাবে কাউকে উদ্ধার করা যায়, তার অনুশীলন করছেন। কোথাও আগুন নেভানোর প্রস্তুতি আবার কোথাও দুর্ঘটনা মোকাবিলার কৌশল। এই দৃশ্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই পথচলতি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে, জানা গিয়েছে কোনও বিপর্যয় ঘটেনি। বরং বিপর্যয় ঘটলে যাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে এক মুহূর্তও দেরি না হয়, তারজন্যই আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে সুন্দরবনের কাকদ্বীপ এলাকায়। সুন্দরবনের মত বিপর্যয়প্রবন এলাকায় যেকোনও মুহূর্তে নেমে আসতে পারে বড়সড় বিপদ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা থেকে শুরু করে অগ্নিকাণ্ড ও বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রায়শই দেখা যায় এই অঞ্চলে। আর সেই পরিস্থিতিতে এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর উদ্দেশ্যে এবার আগাম প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বিশেষ এক বাহিনীকে।
সূত্রে খবর, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুত বিপদকালীন পরিসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাকদ্বীপে শুরু হয়েছে 'অর্জুন বাহিনী'র প্রশিক্ষণ ও মহড়া। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই বাহিনীর অফিস এখনও কাকদ্বীপে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। তবে, তার আগেই মনোনীত কর্মীদের নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রশিক্ষণ পর্ব। বুধবার সকাল থেকেই কাকদ্বীপের চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় এই প্রশিক্ষণ চলে। এই বাহিনীতে কর্মরত সদস্যদের 'বীর' এবং তাঁদের নেতৃত্বদের 'বীর নায়ক' নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপর্যয়ের সময় কিভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব, এ বিষয়ে তাঁদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া চলছে। প্রশিক্ষণে আগুন লাগলে কিভাবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব এবং বিপদগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার করা সম্ভব সেবিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি নৌকাডুবি এবং জলপথের বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজের কৌশলও শেখানো হচ্ছে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় সুন্দরবনে নতুন কিছু নয়। ফলে, ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস এবং বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সাধারণ মানুষদের উদ্ধার করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় প্রশাসনের কাছে। সেই কারণেই প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে দ্রুত বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিপদকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছনোর ক্ষেত্রে 'অর্জুন বাহিনী' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই, অফিস উদ্বোধনের আগেই কাকদ্বীপে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণকে নিছকই মহড়া হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। সুন্দরবনের বিপর্যয় মোকাবিলায় নিজেদের আগাম প্রস্তুত রাখার বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।